ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১৯:৫৫:০৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
১৪ বছরের অগাস্টিনার হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে আর্জেন্টিনা কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত রামিসা ধ*র্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন রামিসা হত্যা মামলা: রায়ের দিন নির্ধারণ হতে পারে আজ সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার

শীতের সকালে নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন 

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০৬ এএম, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শীতের পোশাক পরা এক নারী খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। তাঁর গায়ে ছোট বালতি ও মগ দিয়ে পানি ঢালছেন দুজন। নারীর অভিব্যক্তি দেখে বোঝা যাচ্ছে, ঠান্ডা পানির ঝটকা তিনি সামলাতে পারছেন না। তাঁর কষ্ট হচ্ছে। যাঁরা পানি ঢালছেন, তাঁদের মুখে হাসি। কয়েকজন জটলা করে দেখছেন। একজন মুঠোফোনে ভিডিও করছেন। গতকাল শনিবার ফেসবুকে এক নারীর প্রতি এমন সহিংসতার এক ভিডিও ভাইরাল হয়।

ওই ভিডিও সূত্র ধরে রোববার (৪ জানুয়ারি) ঘটনাটির খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি গুলশানের নদ্দা এলাকার মোড়ল বাজারের। ২ জানুয়ারি শুক্রবার চুরির অভিযোগ তুলে ওই নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়।

গতকাল রাতে নির্যাতনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গুলশান থানার পুলিশ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়েছে। তবে ওই নারীকে পুলিশ খুঁজে পায়নি।

রোববার গুলশানায় থানায় গিয়ে কথা হয় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানসহ গতকাল অভিযানে যাওয়া পুলিশদের সঙ্গে। তাঁরা জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি গতকাল পুলিশের নজরে আসে। স্থানটি গুলশান থানাধীন নদ্দা এলাকার মোড়ল বাজার বলে শনাক্ত করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁরা ঘটনাস্থল মারকাযুত তা'লীম আল- ইসলামী মাদ্রাসায় পৌঁছান।

পুলিশের কাছে মাদ্রাসার লোকজনের ভাষ্য ছিল, সেদিন সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে মাদ্রাসার দুই শিশুশিক্ষার্থী দেখতে পায়, ওই নারী মাদ্রাসার লোকমান নামের একজন শিক্ষকের কক্ষে তাঁর হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিচ্ছেন। শিশুশিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে পাশের কক্ষ থেকে একরাম নামের আরেক শিক্ষক বেরিয়ে আসেন এবং ওই নারীকে আটক করেন। ওই নারীকে তাঁরা পুলিশে সোপর্দ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এত সকালে ‘পুলিশ কোথায় পাবেন’—সেই চিন্তা করে নারীকে নিজেরাই ‘শাস্তি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে নারীকে বেঁধে পানি ঢেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন ওই নারীকে উত্তরাগামী একটি বাসে তুলে দেন।

দল বেঁধে ওই নারীর ‘শাস্তি’ দেখতে থাকা কেউ একজন ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পুলিশ ভিডিও দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে। তবে ওই নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেননি। ওই নারী ওই এলাকার নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ওই নারীকে শনাক্ত করতে পারেনি।

মাদ্রাসা ভবনের যে কক্ষ থেকে ওই নারীকে আটক করা হয়েছিল, তা চতুর্থ তলায়। ওই নারী কীভাবে সেখানে ঢুকতে পারলেন, সেই প্রশ্নেরও উত্তর মিলছে না।

এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ডে থাকা মুঠোফোন নম্বরে কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ওসি মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ভিডিও দেখেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। রাতেই পাঁচজনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগী নারীর খোঁজ করছে।

ওই নারীকে খুঁজে না পেলে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে কী করা হবে—জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা আজ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’ মামলা কী করা হবে? মামলা হলে কোন ধারায় হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটাও আমরা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব।’

থানা থেকে জানা গেছে, যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে, তাঁরা হলেন মাদ্রাসার দুই হুজুর লোকমান ও একরাম এবং তিন শিক্ষার্থী।

এদিকে ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও দেখে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে। তাঁরা ভিডিওটি শেয়ার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন। তাঁদের একজন অধিকারকর্মী ফেরদৌস আরা রুমী ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায়? অবিলম্বে এই...খুঁজে বের করুন। আল্লাহর দোহাই লাগে।’

ওই পোস্টের নিচে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করে মন্তব্য করেন কয়েকজন। এম এ মামুন নামের একজন বলেন, ‘এটা কি আইনের কাজ? নিজেরা আইন হাতে তুলে নিলে বিচার বিভাগের কী দরকার? কী কারণে নিজেরা এমন শাস্তি দিচ্ছে? দেশে যে আইন নাই, এটা বোঝা যায়।’